Posts

লং ড্রাইভ

Image
সার সার গাছ মাথা তুলে রয়েছে আকাশে। আলো পেতে হবে বলে প্রতিযোগিতা আছে, কিন্তু কেউ কাউকে ছাপিয়ে যাওয়ার উচ্ছ্বাস নেই। বেশিরভাগ সময় রাস্তার এক ধারে আটলান্টিক মহাসাগরের কালচে নীল জল। বহুদূরে আলোর বিন্দু; সম্ভবত আয়ারল্যান্ডের ক্রুজ। পাহাড়ের আঁকাবাঁকা পথে সন্ধ্যে হবো হবো। ঝিঁঝিঁ ডাকছে এক নাগাড়ে, কিম্বা অন্য কিছু। গাড়ির কাঁচ তুলতে ইচ্ছে করে না। এলোপাথারি হাওয়া ছুটে এসে নীলাঞ্জনকে কুঁকড়ে দিচ্ছে। চালকের পাশের সীটে নীলাঞ্জন চোখ বুজে হাওয়া খাচ্ছে। সে চশমা খুলে চোখ বন্ধ করে বাইরে মুখ করে আছে। পকেট থেকে ফ্লেভার্ড একটা সিগারেট বের করে সে ঠোঁটে চেপে ধরল। মৃণালিনী এতক্ষণ চুপ করে গাড়ি চালাচ্ছিল। এইবার সে আড়চোখে বিরক্ত হয়ে তাকাল। সে যে বেশিদিন স্টিয়ারিং ধরেনি, সেটা তাকে দেখেই বোঝা যাচ্ছে। তাও গাড়ি চলছে নিখুঁত। পাহাড়ের রাস্তার দুপাশের দৃশ্য, মেয়েমানুষের মত ক্ষণে ক্ষণে পরিবর্তন হচ্ছে। কখনো রুক্ষ আবার কখনও সবুজ! নীলাঞ্জন কোনো দিকে না তাকিয়ে, সীটটা এলিয়ে দিয়ে, চোখ বন্ধ করে কাত হয়ে শুয়ে আছে। শুয়ে শুয়ে কত কী মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। ওরা ছোটবেলায় থাকত উত্তর কলকাতার একখানা পুরোনো বাড়িতে। জয়েন্ট ক্লিয়ার করে এমবি...

My letter to The Chief Minister of West Bengal

Image
To Smt. Mamata Banerjee Honourable Chief Minister of West Bengal Nabanna (14th floor) 325, Sarat Chatterjee Road Shibpur, Howrah, West Bengal - 711102 Respected Ma'am, With due respect ma'am, I'm trying to explain one of the most underrated but a chronic problem that we are suffering since decades. I'm sure there must be a million people across the state, who are suffering from the same. Throughout the year, local clubs (political and apolitical both) organises roughly five blood donation camps, five to ten cultural events, five major religious festivals, at least five nationally important days, and innumerable political meetings during election and most importantly, we have to tolerate tremendous noise from mic in those occasions! I live in one of the typical narrow lanes of central part of Kolkata and at least three mics are installed just in front of our window for each and every mentioned occasions! I don't think that the problem is limited...
Image
সবচেয়ে সব্বোনেশে কান্ড হচ্চে গেম পিরিয়ডে বৃষ্টি! হপ্তায় একদিন মাঠ কাঁপিয়ে ফুটবল খেলার স্বপ্ন সব্বার। ডাকসাইটে ভালো প্লেয়ার সব সেকশানেই থাকে। তাদের পা ছাড়িয়ে পায়ে বল পাওয়ার সম্ভাবনাও অলমোস্ট নেগেটিভ; তবে ফুটবল ফুটবল আটমেজটা হলেই বিকেলটা দিব্বি মাখোমাখো আর ফুরফুরে মেজাজ! আধঘন্টাটাক্ নিয়ম-ফিয়ম চুলোয় পাঠিয়ে, ফিফা-চমকানো নিয়ম বানিয়ে কাদা জল মেখে ক্লাসের তিরিশ বত্তিরিশ জন সবাই মেসি! আমি চিরকালই সেকেন্ড-থার্ড বেঞ্চে বসা ছাত্র। পড়াশোনা করতেই ভাল্লাগত; তবে প্রেয়ার হলের মাথার কালো মেঘ কেন জানি না, ডজ করে ব্ল্যাকবোর্ডের পা থেকে মন চুরি করে ফেলত অনায়াসেই! তারপর মুখপোড়া কাক বিশ্রী চেঁচিয়ে তাল কাটতেই নজর যেত, ব্ল্যাকবোর্ড অন্য রূপ ধারণ করেছে! স্যারকে জিজ্ঞেস করলেই আবার খিল্লি টোন টিটকিরি.. তারপর আবার কোচিঙের মেয়েদের সামনেই চাটন খাওয়ার চান্স! সদ্য টেস্টোস্টেরোন ফুটে রেসের ঘোড়া তখন! রিস্ক কে নেয়! ধুস্! বয়েজ ইস্কুলের ছেলেদের নারীসঙ্গ শুধু নেই নয়, ভবিষ্যতে হওয়ার চান্সও নেই। তবুও কোচিং পড়ার সুবাদে টুকটাক ওড়নার ওড়াউড়ি, বিনুনির দুলুনি আর লেডিবার্ড সাইকেলের ক্রিং ক্রিং! বিকেল হলেই শান্ত অলিগলিতে ত...
Image
শৈশবে, সত্যজিৎ একখানা খাতা করেছিলেন। সই জমানোই ছিল সেই খাতার উদ্দেশ্য। প্রথম সইটা রবিবাবুর হওয়া বাঞ্ছনীয় বলে মনে হয় তাঁর। মায়ের সঙ্গে মানিক অর্থাৎ আমাদের শিশু সত্যজিৎ পৌঁছলেন শান্তিনিকেতনে রবিঠাকুরের কাছে। গুরুদেব ব্যস্ত ছিলেন তখন। বললেন, খাতাটা রেখে যেতে। পরদিন যেতেই, এই লেখা সমেত খাতা ফেরত এল। লেখার নীচের তারিখে, বাংলা সালটা তেরোশো ছত্রিশ অর্থাৎ ইংরাজি উনিশশো উনত্রিশ সাল। অর্থাৎ রবিবাবুর নোবেল পাওয়ার ঠিক ষোলো বছর পর। তখন সত্যজিতের বয়স মাত্র আট!

উত্তম মাধ্যম

Image
- "অন্তত আরেকবার বলুন!" - "কী বলব?" - "এইতো.. মানে যা বললেন" - "কেন হে ছোকরা! এককথা বারবার বকিয়ে বিকেলটা মাটি করার তাল করেছো নাকি?" - "না তা নয়.. তবে আরেকবার যদি বলেন!" - "কেন রিপিট করব, জানতে পারি?" - "আমার ঠিক বিশ্বাস হচ্চে না যে!" - "সেটা তোমার ফল্ট!" - "তাই তো তাই" - "আহ্! তুমি একটা সহজ কথা আশি'বার বলিয়ে ছাড়বে দেখছি!" - " ... " - "ভীড় বাসে, একা ছাদে, ব্রেকআপে, হিউমার ডেফিসিয়েন্সিতে.. যখনই বিপদে পড়িবে, আমায় স্মরণ করিবে। আমি রক্ষা করিব।" - "আর পরীক্ষায় ফেল করলে?" - "পড়লে ফেল করবে কেন!" - "প্রেমে পড়লে?" - "ফেল করার পসিবিলিটি? নো। নেভার!" - "অভয় দিচ্চেন!" - "কেন? ন্যাকা! তুমি জানো না? এক্সপিরিয়েন্স নেই বলছ?" - "না মানে.." - "দক্ষিণাপনে, ঠিক সাড়ে তিন বছর আগে, আমার ডায়লগ ঝেঁপে মেয়েটিকে ম্যানেজ করার চেষ্টা চালাচ্ছিলে...

আকণ্ঠ লড়াইয়ের নেশা

Image
জীবনের প্রতিটি দিনই হাজির হয় পরীক্ষা। সে পরীক্ষার বিষয় আলাদা। সিলেবাস, গুরুত্ব, প্রশ্নপত্র সবই আলাদা। সেসব পরীক্ষায় বসতে হয় সক্কলকেই। স্বাভাবিক নিয়মেই, কেউ পাস করেন আর কেউ করেন না। যাঁরা ফেল করেন, তাদের মধ্যে বেশির ভাগই হাল ছেড়ে দিয়ে হাত পা গুটিয়ে বসে থাকেন। আর বাকিরা চালিয়ে যান চেষ্টা। কষ্ট হয়, হেরে যেতেও ইচ্ছে হয় কখনো কখনো। সেই নিজেরই বিরুদ্ধে লড়ে উঠে দাঁড়াতে হয় আবার। তবেই তো দেখা দেয় ভোরের সূর্য। এই সিনেমার গল্প শুধু স্ট্রাগলের নয়। গল্পটা শুধু বেঁচে থাকারও নয়। গল্পটা বাঁচতে চাওয়ার। বাঁচার ইচ্ছের। সব মিলিয়ে লড়াইয়ের নেশাতেই শেষ হয়ে যায় শুরু থেকে সবটা। "স্মোকিং কিল্স্" কথাটার বেশ মিষ্টি প্রজেক্শান দিয়ে সিনেমার শুরু। ল্যারিঙ্গোক্টমির পর যাঁরা হারিয়ে ফেললেন নিজের স্বরযন্ত্র, যাঁরা ইসোফেজিয়াল ভয়েস ব্যবহার করে 'বিকৃত স্বর' নিয়ে কথা বলার চেষ্টা করেছেন, করছেন বা ভবিষ্যতেও করবেন বা করতে করতে ডিপ্রেশানে চলে যাবেন, যাঁরা চোখের জল ফেলে বন্ধ করবেন জানলা দরজা, এই ছবি তাদের পিঠ চাপড়ে টেনে তুলবে বারবার।  পরিচালক নন্দিতা-শিবপ্রসাদের কাজ কমিয়ে দিয়েছেন অভিনেতা শিবপ্রসাদ। তবে...

চৌকাঠ

Image
উত্তর-কলকাতা' কথাটা, মফস্বলি বাসস্ট্যান্ডের গুমটি পানের দোকানের মত। কেউ কোত্থাও নেই, রেডিওতে হিন্দি গান আর পাল্লা দিয়ে আশুদ্ পাতায় মনকেমন করা ঝিরিঝিরি শব্দ। সবার অলক্ষ্যেই, বাসস্ট্যান্ডের হাওয়ায় অর্বাচীনের মতো জট পাকিয়ে যায় দোক্তা, জর্দা আর পানমশলার গন্ধগুলো। দোকানের সামনে দাঁড়ালেই, ঢুলুঢুলু দোকানি একগাল হেসে মন ভালো করে দেয়! চেনা খদ্দেরের চেনা চাহিদা; চাইতেই হয় না। উত্তর-কলকাতাও ঠিক তেমনি। চাইতে হয় না। ঠিক যখন যেমন দরকার, রোদ্দুর তিরপল দেশলাই মাদুর ক্যালেন্ডার খুচরো.. চাহিদার ঝোপে হাতের কাছে আরশিনগর! এই মহাবিশ্বের জীবনকালের তুলনায় মনুষ্যজীবন নিতান্তই লিলিপুট। তাও মায়া, মনকেমন আর মান অভিমানের খেলা। স্কটিশ ইস্কুলে পড়তে একজন স্যার বলেছিলেন, আমরা কেউই বড় হয়ে যাইনি; বড় হচ্ছি। কচি ডাঁটো ডাগর বুড়ো সবাই; সব্বাই বড় হচ্ছি। উত্তর-কলকাতাও বড় হচ্ছে, বড় হবে। রোজ; কখনও আমাদের নিয়ে, কখনও ছাড়াই।

চিন্তার বিষয়

Image
আমি কোত্থেকে এলুম- অল্প বয়সে এই চিন্তাটা ভাবিয়ে তুলেছিল খুব। অতএব এই টিকি জ্বালানো গল্পটা মা'কে প্রায়ই শোনাতে হত। সৌভাগ্যবশত 'ঠাকুর দিয়ে গেছে' বা 'মেলা থেকে এনেছি' ধরণের আলফাল গল্প আমায় শোনানো হয়নি। তবে রহস্যময় জায়গাগুলো চেপে, গল্পে অপ্রাসঙ্গিক জায়গা জুড়ে জুড়ে গল্প লম্বা হত আর ইলেকট্রিসিটি বর্জিত গেঁও রাত্তিরে মশারির ভেতরে আরও রহস্যের সৃষ্টি হত! ভরপেট দুধরুটি খেয়ে, গলায় পাউডার মেখে হাতপাখার হাওয়ায় অচিরেই সেরাত্রের মত খেলা সাঙ্গ করে ঘুমিয়ে পড়লে তবে জমির মেঠো আল ধরে বইয়ের পাতায় আঁকা সিংহ, সজারু, চিতা আর বেবুনের দল হাঁটতে বেরুত। আম গাছের ডালে আড়চোখে চাঁদ দেখতো অলস শ্লথ। সেই বয়স থেকে আজ অবধি একমাত্র নিজের কল্পনাশক্তির ওপরই আমি দৃঢ় আস্থা রাখতে পারি। কোত্থেকে এলুম- গল্পটা ঘনঘন শোনার পর থেকেই মনে হতে থাকে, ছোটো থেকে যখন বড় হয় সবাই, তবে তখন আমার মত বিরাট সাইজের (পনেরো কেজি) চেয়েও ছোটো বাচ্চা হয়। তার চেয়েও ছোটো বাচ্চা হয়। আবার তার চেয়েও ছোট ছোট করতে করতে সেটা কত ছোটো আর চিন্তা করে কূল কিনারা পাওয়া যেত না। বিশ্বায়নের এই যুগে হোমো সেপিয়েন্স নামক স্তন্যপায়ী ঠিক যখন থেকে...

শিশু ও বিজ্ঞান

Image
ভালো-ছেলে হতে হবে, এমন একটা চাপের সম্মুখীন হয়েছে প্রায় সবাই। কিন্তু এই ভালো-ছেলে ব্যাপারটা  ঠিক কিরকম? কোনো শিশুর জ্ঞান হওয়ার পর থেকেই মূলত মা-বাবা বা বাড়ির বা তার সমাজের আশেপাশে যারা থাকেন, তাদের চোখে সেই শিশুটি ভালো না খারাপ সেটা যাচাই করার একটা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ চেষ্টা থেকেই যায়। যেসব ছেলেমেয়েদের নিয়ন্ত্রণ করা শক্ত, বা যারা কৌতূহল না মেটা অবধি প্রশ্নের পর প্রশ্ন করেই চলে, তাদের নিরীক্ষণের পর সমাজর তথাকথিত জ্যাঠামশাইরা তকমা দেন, ছেলেটা বা মেয়েটা এঁচড়ে পাকা! কিন্তু কোনো শিশুর যদি কৌতূহল কম থাকে, তার প্রশ্নের মান যদি সহজ থাকে বা প্রশ্নের পরিমাণ কম থাকে বা একেবারেই না থাকে, তবে সেই শিশুটি অত্যন্ত সুবোধ এবং তার ভবিষ্যত উজ্জ্বল বলে ধরে নেওয়া হয়! শৈশবে প্রথম যেকোনো কিছু দর্শনই অবাক করে মোহিত করে দেয়। সেই অবাক হওয়াই জলসিঞ্চন করে কৌতূহলী মননে এবং সেই কৌতূহল থেকেই আসে বিজ্ঞান চেতনা। কেবল বই পড়ে পরীক্ষা পাস নয়; প্রাত্যহিক জীবনে বিজ্ঞানের ব্যবহার করাই বিজ্ঞান শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য। জীবনের মোড় ঘুরতে ঘুরতে আমরা পৌঁছে যাই অন্য কোনখানে কিন্তু তার শুভারম্ভ হয়ে যায় শৈশবেই। স্বামী বিবেকান...

দুঃখ বিহীন দুঃখ

Image
এবারের গরমে আধমরা হয়ে গেছে সবাই। গরমের চোটে কোনো কিছুই ভালো লাগছে না। আমার মাথাটা বাকিদের মাথার চেয়ে বড়। তাই নিয়ে ইস্কুলে পড়ার সময় থেকেই সহপাঠীরা হাসিঠাট্টা করে অতিষ্ঠ করে তুলতো। এখন সেই বিরাট মাথায় ততোধিক বড়বড় চুল হয়ে আরও গরম লাগছে। এই গরমের ওপর শনিবার, তাও আবার কলকাতায় ভোটের আগের দিন- সব মিলিয়ে রাস্তাঘাট ফাঁকা। কখনো কখনো দল বেঁধে ক্যামোফ্লাজ পোষাকের মিলিটারি শহর বেড়াতে বেরিয়েছে। সবাই বেশ লম্বা, কয়েকজনকে দেখে কাশ্মীরি বলে মনে হয়। ঘরের গরম কাটিয়ে আমি চায়ের দোকানে বসে চা খাচ্ছি। কারমাইকেল হস্টেল থেকে কালো টি শার্ট পরে জনা চারেক ছেলেও চা খেতে এসেছে। ওদের চা খাওয়ার ধরণ দেখে মনে হয় ওদের খুব তাড়া; সম্ভবত পরীক্ষা। ওরা সবাই কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের ছাত্র। চায়ের দোকানের গায়েই একখানা বটগাছ। তার তলাতেই বসার ছোটো বেঞ্চি। সন্ধ্যে আর নেই, বা রাত হবে বলে তাড়াহুড়ো করে ডিউটি শেষ করে ফেলার তাল করছে। যারা চা খাচ্ছে, সবারই বাড়ি ফেরার তাড়া। কেউ বসছে না। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েই খাচ্ছে। অসাবধানী চুমুকে ছ্যাঁকা লাগছে, ঠোঁটে ঠোঁট বুলিয়ে আবার হুড়োহুড়ি করে চুমুক দিচ্ছে সবাই। তারপরই সবাই ভীড় ট্রেনে মিলি...

খোসায় বিপদ

Image
মাধ্যমিক উচ্চমাধ্যমিক স্তর যাঁরা বাংলা বোর্ডের আওতায় ছিলেন, তাঁরা সম্ভবত মনে করতে পারবেন ফিজিক্স কেমিস্ট্রি অঙ্ক যে বই হোক না কেন, বাংলা ইংরাজিতে উচ্চমাধ্যমিক অবধি, হলদেটে কমলা রঙের সরকারি বই-ই কিনতে হত (এখনকার কথা আমার অজানা)। এই স্তরে আমার অদ্ভুত একটা রোগ ছিল; বই কিনেই ঠিক যে যে গল্প, গদ্য আর নাটকগুলো সিলেবাসে নেই, সেইগুলো সবার আগে নাওয়া খাওয়া ভুলে পড়ে ফেলা। এবং আমার দৃঢ় বিশ্বাস, তৎকালীন ফেসবুক-হোয়াটসঅ্যাপ বিহীন জীবনে এই রোগে আক্রান্ত হয়নি এরকম ছাত্রছাত্রী খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। সরকারি বইয়ে সিলেবাসের বাইরের গল্প পড়ার যা স্বাদ ছিল, তা এমনি আলাদা করে গল্প বই পড়ায় ছিল না। এখনও স্পষ্ট মনে আছে, মাধ্যমিক পাস করার পরই, গল্প পড়ার লোভে আর বই ফুরিয়ে যাওয়ার দোহাই দিয়ে আগেভাগেই উচ্চমাধ্যমিকের পাঠসঞ্চয়ন আর হায়ার সেকেন্ডারি ইংলিশ সিলেকশান মিলিয়ে মোট পাঁচটা বই কিনে ফেলি। কবিতা ও নাটকের বইতে উৎপল দত্তের নাটক নীলকন্ঠ পড়েছিলাম প্রায় আট বছর আগে। আজ সত্যেন বসুর অনূদিত একটা গল্প পড়তে পড়তে সেই নীলকন্ঠ নাটকের কথাটা মনে পড়ে গেল! এই অনূূদিত গল্প আর নাটকের থিম অবশ্যই আলাদা। তবুও প্রতি পদে পদে যেন একই বক্তব...

লখনউ থেকে মেটেবুরুজ হয়ে চাঁদনি চক

Image
ছোটবেলা থেকে সবাই শুনে আসছি, মিথ্যে কথা বলতে নেই। তবুও বিপাকে পড়ে সবাইকেই মিথ্যের আশ্রয় নিতে হয়। কিন্তু দিনে দুপুরে গুচ্ছের মিথ্যে কথা বলতে পারে যারা, তারা সব নানারকম লাল নীল হলুদ সবুজ রাজনৈতিক দলের নেতা। এবছর কলকাতায় গরম পড়েছে বেজায়! গরমের চোটে, একটু বেলা বাড়তে না বাড়তেই রাস্তার কুকুরগুলো লুকিয়ে পড়ছে ছায়া খুঁজে। ধুনুরিরা বেরোচ্ছে না  তুলো ধুনতে। বিহারী রিকশা ওয়ালা দুপুর হতেই ডেলা করে মাখা ছাতু খেয়ে গা এলিয়ে দিচ্ছে ছায়াতে। আর লোকসভা ভোটের দৌলতে সেসব হলদে সবুজ ওরাং ওটাঙের দল এই গরমে মাইক বাজিয়ে চেঁচামেচি শুরু করেছে। এইরকম গরমের দুপুরবেলা ঘরে বসে নেতাদের চেঁচামেচির চোটে বসে মন দিয়ে কাজ করার জো নেই। অগত্যা বাড়ি থেকে বেড়িয়ে পড়াই সমীচীন বলে মনে হল। রাস্তা সম্পূর্ণ শুনশান। সূর্যের তেজ আমার কালো ছাতা ভেদ করে ঝলসে দিচ্ছে চামড়া। বউবাজার পার হয়ে একটা গলির ছায়া ধরে হাঁটতে হাঁটতে ওয়েলিংটন স্কোয়ারে পৌঁছে গেলাম। রাস্তায় গঙ্গাজলের কল থেকে আগ্নেয়গিরির মত হুড়োহুড়ি করে জল বেরিয়ে আসছে। সেদিকে একদৃষ্টে চেয়ে থাকলে ঘোর লেগে যায়। একটা কাক সেই জলে কখনও ঠোঁট দিয়ে জল তুলে, কখনো মাথা ডুবিয়ে নানান কায়দায় চ...

বড় যদি হতে চাও..

Image
সিবলিং রাইভ্যালরি বা সহোদর ভাইবোনের অন্তর্দ্বন্দ্ব সত্যিই কি কেবল বাল্যবয়সে সীমাবদ্ধ? বড় বয়সের রেষারেষিটা নামকরণের জন্যে কেউ নেই বলেই হয়তো সেটা সাংসারিক দ্বন্দ্ব বলে চালিয়ে দেওয়া হয়ে আসছে। ঋতুপর্ণ ঘোষের অভাবের প্রায় ছ'বছর পর তারই গল্পের ভিত্তিতে ছবি তৈরী হওয়াটা বাংলা সিনেমাপ্রেমীদের জন্যে বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটা ঘটনা। তাছাড়া সেই ছবি যদি কৌশিক গাঙ্গুলীর তৈরী হয় তো তার আলাদা আকর্ষণ থাকেই। মেনস্ট্রিম নায়ক-নায়িকার ছবি বাদে বাকি সমস্ত ছবি দেখতে বসলেই নিজের অজান্তেই মন যেকোনো একটা চরিত্রের পক্ষ নিয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু এই ছবিতে দর্শকের ব্যক্তিগত খিদে আর অনুভূতি অনুযায়ী যে যার মতো পক্ষ নিয়ে দাঁড়ালেই গোলমাল। পুরুষতান্ত্রিক ভারতীয় সমাজে, সামাজিক পারিবারিক কিম্বা রাজনৈতিক যেকোনো ক্ষেত্রেই বড় ছেলের ভূমিকা সবসময় অগ্রগণ্য। তবে প্রশ্নটা যখন ওঠে অধিকারবোধ নিয়ে, তখন সামাজিকতাকে প্রাধান্য পেতে একটু বেগ পেতে হয়। নিউক্লিয়ার পরিবারে বা ফ্ল্যাট কালচারে বেড়ে ওঠা দর্শকের, এই ছবিকে অবাস্তব আর বেমানান বলে মনে হতে পারে। তবে যেসব দর্শক একান্নবর্তি পরিবারে বেড়ে উঠেছেন, তারা হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করতে পারবেন এই ছবি...

সোনার সন্ধানে

Image
যখন সময় কাটানোটাই একমাত্র কাজ হয়ে দাঁড়ায়, তখন সময় কাটার বদলে, যেন জুড়তে থাকে ক্রমশ! বেশ খানিকটা পায়চারি হল, অথচ কারোর দেখা নেই! সারারাত জেগে। ভোর হতে বেশী দেরী নেই বোধহয়। গ্র্যান্ডে ঢোকার সৌভাগ্য আমার হবে বলে ভাবিনি, তাও আবার এই পড়ন্ত শীতের মাঝরাত কিম্বা কাকভোরে গ্র্যান্ডের ছাদে দাঁড়িয়ে রয়েছি। কুয়াশা আর হিমের চোটে শরীর খারাপ হওয়ার ভয়ও হচ্ছে। এক জীবনে যে কত কী অভিজ্ঞতা হয়, ভাবতেও অবাক লাগে! ঠিক ঢিল ছোঁড়া দূরেই, বিয়াল্লিশের বাড়িটা আকাশ ফুঁড়ে উঠেছে। তার মাথায়, থেকে থেকে চিকচিক করছে আলো। অন্ধকারের ভিতরে, চূর্ণ হওয়া উচ্চতার দর্প নিয়ে, চ্যাটার্জি ইন্টারন্যাশানাল ভূতের মত স্তম্ভিত হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে আর সাদা শহীদ মিনারের রঙিন আলোটা জ্বলছে স্থির হয়ে। আসলে গল্পের শুরুটা প্রায় মাস তিনেক আগে। সুজয় আমার বহুদিনের পুরোনো বন্ধু। ওর সাথে দেখা হয়ে গেল চায়ের দোকানে। আমাদের আলাপ এই চায়ের দোকানেই। আমরা তখন ফার্স্ট ইয়ারের ছাত্র। ও সিটি কলেজে কমার্স পড়ত আর আমি পড়তাম বঙ্গবাসী কলেজে ফিজিক্স। তারপর ও বোম্বে গেল হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট পড়তে আর তারপর চাকরি পেল গ্র্যান্ড হোটেলে! চাকরির মাইনের সমানুপ...

সব আমি করেচি! আমি!

Image
কলকাতায় থাকেন অথচ কলকাতাকে গর্বের সাথে ভালোবাসেন না, এইরকম মানুষের সংখ্যা খুবই কম। যদি খুব মন দিয়ে মেশা যায়, তবে এই যে ভালোবাসি বলা বিরাট অঙ্কের মানুষ, তাদের দুভাগে ভাগ করা যায়। একদলের জীবনে কলকাতা শব্দটা অতীব কাব্যিক এবং কাল্চার্ড। তাঁরা কলকাতার রস না বুঝলেও, কলকাতাকে ভালো বললে যে সহজেই জাতে ওঠা যায়, সেটা বুঝতে পেরেছেন। তাদের ভালবাসার মূলমন্ত্র হল, ধরি-মাছ-না-ছুঁই-পানি। টুকিটাকি ঝালমুড়িতে ভিক্টোরিয়া দিয়ে তাদের কলকাতার শুরু, ফ্রেমিং লাইটিং না বুঝলেও দামী ক্যামেরা বগলে পুজোর আগে কুমোরটুলি দিয়ে টুকটাক লোকদেখানো আর হলুদ ট্যাক্সি নিয়ে ফোটোশ্যুট দিয়েই তাদের কলকাতার শেষ। আর বাকি খুব ছোট দলটা, এসব কাটিয়ে বেশ আয়েস করে হাঁটুজল, চাঁদা, ভীড়মিনিবাস, আইলিগ, সিপিয়েমতীনোমূল, বাঙালঘটি, তুমুল চ্যাঁচামেচি, ফুটপাতে দরদাম এই সমস্ত কিছুর সাথেই নিজেদের আত্মিক সম্পর্ক স্থাপন করেছেন। তাঁরা উঠতে বসতে, প্রতি মুহূর্তে কলকাতাকে গালমন্দ করেন। তাদের প্রেমটা, একান্নতম বিবাহবার্ষিকীর রাতে, কে নাক ডেকেছিল, সেই নিয়ে বেডরুমে ঝগড়া করে উল্টোপাশ ফিরে শুয়ে পড়ার মতো। যাই হোক, আপাতত এইসব রিক্সা-ফিক্সা বাদে, যে জিনিসগুলো ফাই...
Image
- উঁহু! - কী উঁহু? - - আরে বললাম তো ক্ষিদে পেয়েছিল। তাই। - তাই বলে.. - কী? - তাই বলে এগ মাটন? - একদম গরম। পেঁয়াজকুচো.. লঙ্কাকুচো.. উহ্! পার্কস্ট্রীট বেয়ে বিকেল গড়িয়ে পড়ছে আর আমি কামড় দিচ্ছি! উফ্! - - এইচডি কোয়ালিটি ছবি পাঠালাম তো। ভালো হয়নি? - আমি যাচ্ছি। - ধুর! আরে দাঁড়াও তো! নীচে ঠান্ডা! নেমেই কী করবে! - না। ভাল্লাগছেনা। আর এক্ষুনি ফুলপিসি চলে আসতে পারে! - তোমার পিসি কি এখানেই পার্মানেন্টলি গ্যারেজ হয়েছেন নাকি? - ইস্! - তোমার পিসি যখন এসেছিলেন তখনও বোধহয় গান্ধীজি বেঁচে! - অ্যাই! আমার ফুলপিসি কী ভালো! - ঘোড়ার ডিম ভালো! - অ্যাই! ফুলপিসিকে নিয়ে একটাও বাজে কথা নয়। - ভাইঝি ছাদে রোদ-পিঠ করে প্রেম করবে! তাকে একটু প্রাইভেসি দিতে পারে না! ভালো না ঘোড়ার ডিম! তোমার ফুলপিসির ওই ফুলটা কি ঘেঁটু? - আমি আর কথাই বলব না। - আমার মনে হয় ফুলটা বাংলার নয়। ইংরাজির! - ইস্! - ধুর! যতো সব উটকো লোকজন! - উটকো! জানো? ফুলপিসি আজ আমার জন্যে কচুরি করবে! - নির্ঘাত ছাতুর? - উঁহু। - তবে ত বিউলির ডাল ছাড়া আর কী? - আর সাথে আলুরদমও। - মহামুস্কিল! আরে কচুরিটা কীস...