Posts

Showing posts with the label Fiction

লং ড্রাইভ

Image
সার সার গাছ মাথা তুলে রয়েছে আকাশে। আলো পেতে হবে বলে প্রতিযোগিতা আছে, কিন্তু কেউ কাউকে ছাপিয়ে যাওয়ার উচ্ছ্বাস নেই। বেশিরভাগ সময় রাস্তার এক ধারে আটলান্টিক মহাসাগরের কালচে নীল জল। বহুদূরে আলোর বিন্দু; সম্ভবত আয়ারল্যান্ডের ক্রুজ। পাহাড়ের আঁকাবাঁকা পথে সন্ধ্যে হবো হবো। ঝিঁঝিঁ ডাকছে এক নাগাড়ে, কিম্বা অন্য কিছু। গাড়ির কাঁচ তুলতে ইচ্ছে করে না। এলোপাথারি হাওয়া ছুটে এসে নীলাঞ্জনকে কুঁকড়ে দিচ্ছে। চালকের পাশের সীটে নীলাঞ্জন চোখ বুজে হাওয়া খাচ্ছে। সে চশমা খুলে চোখ বন্ধ করে বাইরে মুখ করে আছে। পকেট থেকে ফ্লেভার্ড একটা সিগারেট বের করে সে ঠোঁটে চেপে ধরল। মৃণালিনী এতক্ষণ চুপ করে গাড়ি চালাচ্ছিল। এইবার সে আড়চোখে বিরক্ত হয়ে তাকাল। সে যে বেশিদিন স্টিয়ারিং ধরেনি, সেটা তাকে দেখেই বোঝা যাচ্ছে। তাও গাড়ি চলছে নিখুঁত। পাহাড়ের রাস্তার দুপাশের দৃশ্য, মেয়েমানুষের মত ক্ষণে ক্ষণে পরিবর্তন হচ্ছে। কখনো রুক্ষ আবার কখনও সবুজ! নীলাঞ্জন কোনো দিকে না তাকিয়ে, সীটটা এলিয়ে দিয়ে, চোখ বন্ধ করে কাত হয়ে শুয়ে আছে। শুয়ে শুয়ে কত কী মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। ওরা ছোটবেলায় থাকত উত্তর কলকাতার একখানা পুরোনো বাড়িতে। জয়েন্ট ক্লিয়ার করে এমবি...

উত্তম মাধ্যম

Image
- "অন্তত আরেকবার বলুন!" - "কী বলব?" - "এইতো.. মানে যা বললেন" - "কেন হে ছোকরা! এককথা বারবার বকিয়ে বিকেলটা মাটি করার তাল করেছো নাকি?" - "না তা নয়.. তবে আরেকবার যদি বলেন!" - "কেন রিপিট করব, জানতে পারি?" - "আমার ঠিক বিশ্বাস হচ্চে না যে!" - "সেটা তোমার ফল্ট!" - "তাই তো তাই" - "আহ্! তুমি একটা সহজ কথা আশি'বার বলিয়ে ছাড়বে দেখছি!" - " ... " - "ভীড় বাসে, একা ছাদে, ব্রেকআপে, হিউমার ডেফিসিয়েন্সিতে.. যখনই বিপদে পড়িবে, আমায় স্মরণ করিবে। আমি রক্ষা করিব।" - "আর পরীক্ষায় ফেল করলে?" - "পড়লে ফেল করবে কেন!" - "প্রেমে পড়লে?" - "ফেল করার পসিবিলিটি? নো। নেভার!" - "অভয় দিচ্চেন!" - "কেন? ন্যাকা! তুমি জানো না? এক্সপিরিয়েন্স নেই বলছ?" - "না মানে.." - "দক্ষিণাপনে, ঠিক সাড়ে তিন বছর আগে, আমার ডায়লগ ঝেঁপে মেয়েটিকে ম্যানেজ করার চেষ্টা চালাচ্ছিলে...

সোনার সন্ধানে

Image
যখন সময় কাটানোটাই একমাত্র কাজ হয়ে দাঁড়ায়, তখন সময় কাটার বদলে, যেন জুড়তে থাকে ক্রমশ! বেশ খানিকটা পায়চারি হল, অথচ কারোর দেখা নেই! সারারাত জেগে। ভোর হতে বেশী দেরী নেই বোধহয়। গ্র্যান্ডে ঢোকার সৌভাগ্য আমার হবে বলে ভাবিনি, তাও আবার এই পড়ন্ত শীতের মাঝরাত কিম্বা কাকভোরে গ্র্যান্ডের ছাদে দাঁড়িয়ে রয়েছি। কুয়াশা আর হিমের চোটে শরীর খারাপ হওয়ার ভয়ও হচ্ছে। এক জীবনে যে কত কী অভিজ্ঞতা হয়, ভাবতেও অবাক লাগে! ঠিক ঢিল ছোঁড়া দূরেই, বিয়াল্লিশের বাড়িটা আকাশ ফুঁড়ে উঠেছে। তার মাথায়, থেকে থেকে চিকচিক করছে আলো। অন্ধকারের ভিতরে, চূর্ণ হওয়া উচ্চতার দর্প নিয়ে, চ্যাটার্জি ইন্টারন্যাশানাল ভূতের মত স্তম্ভিত হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে আর সাদা শহীদ মিনারের রঙিন আলোটা জ্বলছে স্থির হয়ে। আসলে গল্পের শুরুটা প্রায় মাস তিনেক আগে। সুজয় আমার বহুদিনের পুরোনো বন্ধু। ওর সাথে দেখা হয়ে গেল চায়ের দোকানে। আমাদের আলাপ এই চায়ের দোকানেই। আমরা তখন ফার্স্ট ইয়ারের ছাত্র। ও সিটি কলেজে কমার্স পড়ত আর আমি পড়তাম বঙ্গবাসী কলেজে ফিজিক্স। তারপর ও বোম্বে গেল হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট পড়তে আর তারপর চাকরি পেল গ্র্যান্ড হোটেলে! চাকরির মাইনের সমানুপ...
Image
বিছানায় সিজিএলের একটা বই মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। একখানা সিএফএল জ্বলছে আর রংচটা পাজামা পরে, একটা আলোআঁধারি ঘরে তিনজন চুপ করে বসে আছে। বাকি সব ঘরগুলো অন্ধকার। দুজন বাড়ি গেছে। শঙ্কর তবুও দূর দিগন্তে রিখটার্সভেল্ড পর্বতশ্রেণীর নিশানা পেয়েছিল, কিন্তু এরা কোনো দিকেই চাকরির কোন সম্ভাবনাটুকুও পায়না। হুড়োহুড়ি করে চাকরি খোঁজার মত অভাব ওদের নেই। তবুও বাড়ি থেকে প্রত্যাশার চাপ প্রচন্ড। ডিসেম্বরটাও প্রায় শেষ। যখন তখন ঝিরিঝিরি বৃষ্টি হচ্ছে। শীত পড়েছে জাঁকিয়ে। তার মধ্যে আবার ঠিক সন্ধ্যে নাগাদ রাজুদার ঘর থেকে তার ঝুলন্ত লাশটা উদ্ধার হয়েছে। রাজুদার মা মারা গেছেন বহু বছর আগে। তার বাবার চাকরি নেই। এই মেসটা থেকেই যা আয়, তা দিয়ে বাবা-ছেলের ভালোই চলে যেত। রাজুদা'কে সিলিং ফ্যান থেকে ঝুলতে দেখে ওর বাবা একটুও কাঁদেনি। অদ্ভুত ভাবে ঘোর লেগে ভ্যাবাচাকা খেয়ে থমকে গেছে। আজ মঙ্গলবার। মাংসবার। কিন্তু দুর্ঘটনার পরে আর মাংস খাওয়ার ইচ্ছে হল না কারোরই। এদিকে সুযোগ বুঝে রান্নার মাসিও ডুব দিয়েছে। গত সপ্তাহ থেকে পাড়ার রুটির দোকানটা বন্ধ। পুঁজি বলতে অল্প চানাচুর পড়ে আছে। রাজুদার কথাগুলো বারবার মনে পড়ে। সে বলত, শোন ভাই.. ...

অসমাপিকা

Image
প্রেম এসেছিল কি না বলা মুশকিল। কিন্তু নারীসঙ্গ অন্তত একবার হলেও এসেছিল আমাদের তিনজনেরই জীবনে। তাই রাগ, অভিমান, প্রেম, প্রতিহিংসা প্রভৃতি সবরকম অভিব্যক্তির মেয়েলি রূপই আমাদের স্পর্শেন্দ্রিয়ের পরিচিত। বাকী দুজনের কথা জানি না, তবে যে আমার চোখ হাত বেঁধে, হিড়হিড় করে টেনে নিয়ে চলছিল, তাকে বিশ্বাসের কোনও প্রশ্নই ওঠে না বটে, তবে দুম করে অবিশ্বাস করাও যায় না। চোখ আর হাত বাঁধা অবস্থাতেই ওরা আমাদের টেনে তুলতে লাগল সিঁড়ি বেয়ে। আমরা তো কারুর কোনও ক্ষতি করিনি, তবে কেন এরকম দুর্ভোগ! সিঁড়ি শেষ হতেই, বিরাট একটা দরজা খোলার শব্দ হল। হাঁটাচলা অস্বাভাবিক হলেও মস্তিস্ক হয়ে উঠছিল প্রচন্ড সজাগ। প্রাণভয় আর উত্তেজনায় গা ভরে ইন্দ্রিয়েরা সজাগ হয়ে উঠেছিল। এই বেড়ানোর পরিকল্পনাটা আমারই। পকেটে পয়সাও ছিল না বিশেষ। সঙ্গে যে দুজন ছিল, খানিকটা তাদের কাঁধে বন্দুক রেখেই লখ্নৌ বেড়ানোর সাধপূরণ। দুজনেই প্রতিষ্ঠিত। ছুটিছাটা পেলেই একজন ক্যামেরা নিয়ে বেরোয়। আর একজন মেজাজ ঠিক থাকলে, অনায়াসেই লিখতে পারে মসৃণ চন্দনবাটার মত ঝকঝকে কবিতা। আমার পা টলছে অসম্ভব রকম। মনে পড়ছে, আমার ফোনটা বেশীদিন হয়নি এখনও। সেটা ফেলে আসতে...

দুই পৃথিবী

Image
প্রায় বছর দশেক আগে ডোভার লেন সঙ্গীত সম্মেলনে ইংরেজিতে প্রথম বর্ষের ছাত্র সৃজনের সাথে আলাপ হয় পদার্থবিজ্ঞানে দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী নন্দিতার। আলাপ ছাপিয়ে বন্ধুত্ব, বন্ধুত্ব ছাপিয়ে নিজেদের অজান্তেই প্রেম। ক‍্যালেন্ডারের পাতার সাথে ঘুরতে থাকে বছর, বয়স। কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়। তার কয়েক বছর পর, পিএইচডি করতে নন্দিতা পাড়ি দেয় মুম্বাই। কর্মব্যস্ততা বাধ সাধতে পারেনি প্রেমে। রাজ‍্যের মানচিত্র, ঘড়ি, আবহাওয়া সব কিছু ছাপিয়ে দিনের অল্প হলেও সময় ছুঁয়ে যেত একে অপরকে। চুপ থেকেও বোঝানো যেত গভীর থেকে গভীরতর কথা। শুধু দীর্ঘশ্বাসেই ধরা দিত রকমারি অনুজ্ঞা। প্রায় চার বছর পর কলকাতা ফিরে পায় দুজনকে। বছর ঘুরতেই অধ‍্যাপনার সুযোগ আসে দুজনেরই। কলেজে পড়ানো দিয়ে শুরু হয় নতুন জীবন, ব‍্যস্ততা। আর ব‍্যস্ততার অজুহাতে অল্প অল্প করে দূরত্ব বাড়তে শুরু করে। অকাজের কথাতেও রাত কাটানো যায় এমন মানুষের সাথেই হয়ত সংসার করা উচিৎ। তবে কোনো কারণে দেখা করার আকাঙ্ক্ষাগুলো কমতে থাকে আর বাড়তে থাকে দেখা না করার অজুহাত। কাজের চাপ বরাবরই সুন্দর অকাট্য অজুহাত হয়ে দেওয়াল তুলতে থাকে দুজনের মাঝে। নির্ভেজাল প্রেম বছর ক...

টাইম ম্যানেজমেন্ট

Image
কিছু কিছু ফোন নম্বর, শত চেষ্টা করেও মন থেকে ডিলিট করা যায় না কোনোদিনই। সেরকমই একটা নম্বর যখন নীলাঞ্জনের ফোনে জ্বলে উঠে ওর ধুকপুকুনিটা হঠাৎ বাড়িয়ে দিল, ইডেন হসপিটালের বারান্দায় তখন সবে টাটকা সন্ধ্যে। আট'বছর পর এই ফোনের কারণ ভাবতে ভাবতে ফোনটা কেটে গেল। কয়েক মুহুর্ত পরে আবার এল। সেই নম্বর। সাহস করে কানে ধরতেই, সেই চিরচেনা গলা ভেসে এলো। 'ডক্টর ঘোষ?' উত্তর দেওয়াটা সহজ হলেও উত্তরটা সহজ ছিল না। নীলাঞ্জন নির্বাক হয়ে রইল। ঢোঁক গিলে ধুকপুকুনি কমানোর চেষ্টা করতে লাগল। পাছে ওদিক থেকে শুনতে পাওয়া যায়। 'চিনতে পারছেন?' নীরবতা ভেঙ্গে আবার প্রশ্ন। অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে সে বলল, পারছি। 'কী করে!' 'গলা শুনে। ন্যাচারালি।' 'সেই.. ডক্টরের মেমোরী আফ্টার অল!' নীলাঞ্জন চুপ করে রইল। একটা হলুদ আলো বারান্দা দিয়ে গড়িয়ে ঠিক ওর পায়ের কাছে এসে থমকেছে। নীচে রোগীর পরিবারবর্গের ভীড়। সেদিকে তাকিয়ে সে বলল, চেনা চেনা তো অনেক কিছুই লাগে; চেনা যায় না তো শেষমেশ! 'উফ্.. এগেইন! লেটস্ কাম টু দ্যা পয়েন্ট' দ্রুততায় পেশাদারিত্বের ছাপ। নীলাঞ্জন জবাব ...