Posts

সব আমি করেচি! আমি!

Image
কলকাতায় থাকেন অথচ কলকাতাকে গর্বের সাথে ভালোবাসেন না, এইরকম মানুষের সংখ্যা খুবই কম। যদি খুব মন দিয়ে মেশা যায়, তবে এই যে ভালোবাসি বলা বিরাট অঙ্কের মানুষ, তাদের দুভাগে ভাগ করা যায়। একদলের জীবনে কলকাতা শব্দটা অতীব কাব্যিক এবং কাল্চার্ড। তাঁরা কলকাতার রস না বুঝলেও, কলকাতাকে ভালো বললে যে সহজেই জাতে ওঠা যায়, সেটা বুঝতে পেরেছেন। তাদের ভালবাসার মূলমন্ত্র হল, ধরি-মাছ-না-ছুঁই-পানি। টুকিটাকি ঝালমুড়িতে ভিক্টোরিয়া দিয়ে তাদের কলকাতার শুরু, ফ্রেমিং লাইটিং না বুঝলেও দামী ক্যামেরা বগলে পুজোর আগে কুমোরটুলি দিয়ে টুকটাক লোকদেখানো আর হলুদ ট্যাক্সি নিয়ে ফোটোশ্যুট দিয়েই তাদের কলকাতার শেষ। আর বাকি খুব ছোট দলটা, এসব কাটিয়ে বেশ আয়েস করে হাঁটুজল, চাঁদা, ভীড়মিনিবাস, আইলিগ, সিপিয়েমতীনোমূল, বাঙালঘটি, তুমুল চ্যাঁচামেচি, ফুটপাতে দরদাম এই সমস্ত কিছুর সাথেই নিজেদের আত্মিক সম্পর্ক স্থাপন করেছেন। তাঁরা উঠতে বসতে, প্রতি মুহূর্তে কলকাতাকে গালমন্দ করেন। তাদের প্রেমটা, একান্নতম বিবাহবার্ষিকীর রাতে, কে নাক ডেকেছিল, সেই নিয়ে বেডরুমে ঝগড়া করে উল্টোপাশ ফিরে শুয়ে পড়ার মতো। যাই হোক, আপাতত এইসব রিক্সা-ফিক্সা বাদে, যে জিনিসগুলো ফাই...
Image
- উঁহু! - কী উঁহু? - - আরে বললাম তো ক্ষিদে পেয়েছিল। তাই। - তাই বলে.. - কী? - তাই বলে এগ মাটন? - একদম গরম। পেঁয়াজকুচো.. লঙ্কাকুচো.. উহ্! পার্কস্ট্রীট বেয়ে বিকেল গড়িয়ে পড়ছে আর আমি কামড় দিচ্ছি! উফ্! - - এইচডি কোয়ালিটি ছবি পাঠালাম তো। ভালো হয়নি? - আমি যাচ্ছি। - ধুর! আরে দাঁড়াও তো! নীচে ঠান্ডা! নেমেই কী করবে! - না। ভাল্লাগছেনা। আর এক্ষুনি ফুলপিসি চলে আসতে পারে! - তোমার পিসি কি এখানেই পার্মানেন্টলি গ্যারেজ হয়েছেন নাকি? - ইস্! - তোমার পিসি যখন এসেছিলেন তখনও বোধহয় গান্ধীজি বেঁচে! - অ্যাই! আমার ফুলপিসি কী ভালো! - ঘোড়ার ডিম ভালো! - অ্যাই! ফুলপিসিকে নিয়ে একটাও বাজে কথা নয়। - ভাইঝি ছাদে রোদ-পিঠ করে প্রেম করবে! তাকে একটু প্রাইভেসি দিতে পারে না! ভালো না ঘোড়ার ডিম! তোমার ফুলপিসির ওই ফুলটা কি ঘেঁটু? - আমি আর কথাই বলব না। - আমার মনে হয় ফুলটা বাংলার নয়। ইংরাজির! - ইস্! - ধুর! যতো সব উটকো লোকজন! - উটকো! জানো? ফুলপিসি আজ আমার জন্যে কচুরি করবে! - নির্ঘাত ছাতুর? - উঁহু। - তবে ত বিউলির ডাল ছাড়া আর কী? - আর সাথে আলুরদমও। - মহামুস্কিল! আরে কচুরিটা কীস...
Image
সপ্তাহের শেষ কবে? শনিবার নাকি রোব্বার? অনেকে অনেকরকম ভাবেন। তাতে তফাৎ কিছুই হয় না। সেরকমই একটা বছর শেষের চেয়ে বলা ভালো, একটা ক্যালেন্ডারের সব পাতাগুলো শেষ। তারিখ শেষ। আর আলাদা বলতে বিশেষ কিছু নেই। আবার মঙ্গলের পর বুধবার। তারপর বেস্পতি, শুক্কুর.. চলতেই থাকবে। এই 'বছর শেষের' খানিক আগে যদি ভাবতে বসা যায় আমার হয়নি'র লিস্ট, তাহলে হালখাতার মত মোটা সুতোয় বাঁধা খাতা চাই। আর চাই কালি ফুরোবেই না, এরকম পেন। আমি তো রবীন্দ্রনাথ বা বিভূতিভূষণ নই, আমি অনেক কিছুই ভাবি কিন্তু লিখে বা বলে প্রকাশ করা হয়ে ওঠে না; মাথাতেই গিজগিজ করে আর তারপর অজান্তেই মুছে যায়। কেবলই মুছে ফেলা গেলে বরং ভালো হত, কিন্তু হাত ধোয়ার পরেও লেগে থাকা হলুদটুকুর মত রয়ে যায়। চলার পথে লোকজন যা যা পায়, তার দশগুণ হারিয়ে ফেলে। আমার ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। সালটা দু হাজার চোদ্দ। প্রথম ব্লগ। আইডিয়েট ক্রিয়েশান। উদ্দেশ্য ছবি আর লেখা। দিদি একখানা ক্যামেরা দিয়েছিল। সনি সাইবারশট। সেটা নিয়ে কলকাতার এ মাথা থেকে ও মাথা ঘুরে ক্যামেরা করতে ভালো লাগত। একলাই ঘুরে ঘুরে ক্লান্ত হয়ে পড়ার আগেই এল পনেরো। দু হাজার পনেরো সাল। ফেসবুক ত...
Image
বিছানায় সিজিএলের একটা বই মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। একখানা সিএফএল জ্বলছে আর রংচটা পাজামা পরে, একটা আলোআঁধারি ঘরে তিনজন চুপ করে বসে আছে। বাকি সব ঘরগুলো অন্ধকার। দুজন বাড়ি গেছে। শঙ্কর তবুও দূর দিগন্তে রিখটার্সভেল্ড পর্বতশ্রেণীর নিশানা পেয়েছিল, কিন্তু এরা কোনো দিকেই চাকরির কোন সম্ভাবনাটুকুও পায়না। হুড়োহুড়ি করে চাকরি খোঁজার মত অভাব ওদের নেই। তবুও বাড়ি থেকে প্রত্যাশার চাপ প্রচন্ড। ডিসেম্বরটাও প্রায় শেষ। যখন তখন ঝিরিঝিরি বৃষ্টি হচ্ছে। শীত পড়েছে জাঁকিয়ে। তার মধ্যে আবার ঠিক সন্ধ্যে নাগাদ রাজুদার ঘর থেকে তার ঝুলন্ত লাশটা উদ্ধার হয়েছে। রাজুদার মা মারা গেছেন বহু বছর আগে। তার বাবার চাকরি নেই। এই মেসটা থেকেই যা আয়, তা দিয়ে বাবা-ছেলের ভালোই চলে যেত। রাজুদা'কে সিলিং ফ্যান থেকে ঝুলতে দেখে ওর বাবা একটুও কাঁদেনি। অদ্ভুত ভাবে ঘোর লেগে ভ্যাবাচাকা খেয়ে থমকে গেছে। আজ মঙ্গলবার। মাংসবার। কিন্তু দুর্ঘটনার পরে আর মাংস খাওয়ার ইচ্ছে হল না কারোরই। এদিকে সুযোগ বুঝে রান্নার মাসিও ডুব দিয়েছে। গত সপ্তাহ থেকে পাড়ার রুটির দোকানটা বন্ধ। পুঁজি বলতে অল্প চানাচুর পড়ে আছে। রাজুদার কথাগুলো বারবার মনে পড়ে। সে বলত, শোন ভাই.. ...
Image
ছ'বছর ধরে সরকারী চাকরির ফর্ম ফিলআপ করা, দত্ত-পালের চল্লিশখানা এমসিকিউ এক ঘন্টায় করে ফেলা, বিয়াল্লিশ বছর বয়সে রাত জেগে বেঙ্গলি ম্যাট্রিমনিতে মধুবালার মত সুন্দরী বউয়ের খোঁজ করা, একদিন ঠিক গণতন্ত্র আসবে, সেই আশায় মোমবাতি হাতে পায়চারি করা.. ইত্যাদি আরো পাঁচ হাজার রকমের ডেডিকেশান কলকাতার অলিতে গলিতে প্রচলিত। তবে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ডেডিকেশান হচ্চে, পাঁঠার পায়ের হাড়ের মজ্জাটুকু অতি যত্নে এবং কষ্টে টেনে আনা। থ্রেশোল্ড টপকে হার্ডওয়ার্ক দিয়ে হুড়োহুড়ি করতে গেলেই বিষম খাওয়ার সম্ভাবনা। স্মার্টওয়ার্ক চাই। হালকা হালকা টানের ফাঁকে হাড় আর ঠোঁটের ফ্রিকশান কমাতে ঝোল মাখিয়ে নিলেই হবে আর যদি এককুঁচো গন্ধরাজ লেবু থাকে; তাহলে তো রোমান্স আলাদাই!
Image
পৃথিবীতে খুব অল্প লোক আছে, যারা বীভৎস গোঁয়ার! না পাওয়া কিছু, পাওয়ার জন্যে সর্বস্ব হারিয়েও বসে থাকে পাওয়ার অপেক্ষায়। তার জন্যে কেউ মুচকি হাসে, কেউবা চুকচুক শব্দে সহানুভূতির কাঁথা চাপা দিয়ে যায়। চমৎকার এই সমাজে মানুষ চেনা মুশকিলের কথা নয়। আত্মীয় হতে, আত্মার কাছাকাছি হওয়ার পরিশ্রমটুকুও বিলাসিতা। মিথ্যে কথার এই শহরে তবুও দৈবাৎ দেখা হয়ে যায় পাঁচিল টপকানো পৌনে-একখানা বাগানবাহারের সাথে। বেঁচে থাকার জন্যে দরকারি আশা-ভরসার অনেকটাই সে সরবরাহ করে। তারপর আমরা আত্মীয় সেজে মিলিয়ে যাই অনাত্মীয়ের ভীড়ে। খামখেয়ালি আত্মাটা অবিশ্যি আমাদের মায়া ত্যাগ করে জাপটে ধরে ঐ পলকা একখানা ডাল। আমাদের একলা ফেলেই, দোল খায় বাতাসের আরামে।

অসমাপিকা

Image
প্রেম এসেছিল কি না বলা মুশকিল। কিন্তু নারীসঙ্গ অন্তত একবার হলেও এসেছিল আমাদের তিনজনেরই জীবনে। তাই রাগ, অভিমান, প্রেম, প্রতিহিংসা প্রভৃতি সবরকম অভিব্যক্তির মেয়েলি রূপই আমাদের স্পর্শেন্দ্রিয়ের পরিচিত। বাকী দুজনের কথা জানি না, তবে যে আমার চোখ হাত বেঁধে, হিড়হিড় করে টেনে নিয়ে চলছিল, তাকে বিশ্বাসের কোনও প্রশ্নই ওঠে না বটে, তবে দুম করে অবিশ্বাস করাও যায় না। চোখ আর হাত বাঁধা অবস্থাতেই ওরা আমাদের টেনে তুলতে লাগল সিঁড়ি বেয়ে। আমরা তো কারুর কোনও ক্ষতি করিনি, তবে কেন এরকম দুর্ভোগ! সিঁড়ি শেষ হতেই, বিরাট একটা দরজা খোলার শব্দ হল। হাঁটাচলা অস্বাভাবিক হলেও মস্তিস্ক হয়ে উঠছিল প্রচন্ড সজাগ। প্রাণভয় আর উত্তেজনায় গা ভরে ইন্দ্রিয়েরা সজাগ হয়ে উঠেছিল। এই বেড়ানোর পরিকল্পনাটা আমারই। পকেটে পয়সাও ছিল না বিশেষ। সঙ্গে যে দুজন ছিল, খানিকটা তাদের কাঁধে বন্দুক রেখেই লখ্নৌ বেড়ানোর সাধপূরণ। দুজনেই প্রতিষ্ঠিত। ছুটিছাটা পেলেই একজন ক্যামেরা নিয়ে বেরোয়। আর একজন মেজাজ ঠিক থাকলে, অনায়াসেই লিখতে পারে মসৃণ চন্দনবাটার মত ঝকঝকে কবিতা। আমার পা টলছে অসম্ভব রকম। মনে পড়ছে, আমার ফোনটা বেশীদিন হয়নি এখনও। সেটা ফেলে আসতে...