Posts

Image
পৃথিবীতে খুব অল্প লোক আছে, যারা বীভৎস গোঁয়ার! না পাওয়া কিছু, পাওয়ার জন্যে সর্বস্ব হারিয়েও বসে থাকে পাওয়ার অপেক্ষায়। তার জন্যে কেউ মুচকি হাসে, কেউবা চুকচুক শব্দে সহানুভূতির কাঁথা চাপা দিয়ে যায়। চমৎকার এই সমাজে মানুষ চেনা মুশকিলের কথা নয়। আত্মীয় হতে, আত্মার কাছাকাছি হওয়ার পরিশ্রমটুকুও বিলাসিতা। মিথ্যে কথার এই শহরে তবুও দৈবাৎ দেখা হয়ে যায় পাঁচিল টপকানো পৌনে-একখানা বাগানবাহারের সাথে। বেঁচে থাকার জন্যে দরকারি আশা-ভরসার অনেকটাই সে সরবরাহ করে। তারপর আমরা আত্মীয় সেজে মিলিয়ে যাই অনাত্মীয়ের ভীড়ে। খামখেয়ালি আত্মাটা অবিশ্যি আমাদের মায়া ত্যাগ করে জাপটে ধরে ঐ পলকা একখানা ডাল। আমাদের একলা ফেলেই, দোল খায় বাতাসের আরামে।

অসমাপিকা

Image
প্রেম এসেছিল কি না বলা মুশকিল। কিন্তু নারীসঙ্গ অন্তত একবার হলেও এসেছিল আমাদের তিনজনেরই জীবনে। তাই রাগ, অভিমান, প্রেম, প্রতিহিংসা প্রভৃতি সবরকম অভিব্যক্তির মেয়েলি রূপই আমাদের স্পর্শেন্দ্রিয়ের পরিচিত। বাকী দুজনের কথা জানি না, তবে যে আমার চোখ হাত বেঁধে, হিড়হিড় করে টেনে নিয়ে চলছিল, তাকে বিশ্বাসের কোনও প্রশ্নই ওঠে না বটে, তবে দুম করে অবিশ্বাস করাও যায় না। চোখ আর হাত বাঁধা অবস্থাতেই ওরা আমাদের টেনে তুলতে লাগল সিঁড়ি বেয়ে। আমরা তো কারুর কোনও ক্ষতি করিনি, তবে কেন এরকম দুর্ভোগ! সিঁড়ি শেষ হতেই, বিরাট একটা দরজা খোলার শব্দ হল। হাঁটাচলা অস্বাভাবিক হলেও মস্তিস্ক হয়ে উঠছিল প্রচন্ড সজাগ। প্রাণভয় আর উত্তেজনায় গা ভরে ইন্দ্রিয়েরা সজাগ হয়ে উঠেছিল। এই বেড়ানোর পরিকল্পনাটা আমারই। পকেটে পয়সাও ছিল না বিশেষ। সঙ্গে যে দুজন ছিল, খানিকটা তাদের কাঁধে বন্দুক রেখেই লখ্নৌ বেড়ানোর সাধপূরণ। দুজনেই প্রতিষ্ঠিত। ছুটিছাটা পেলেই একজন ক্যামেরা নিয়ে বেরোয়। আর একজন মেজাজ ঠিক থাকলে, অনায়াসেই লিখতে পারে মসৃণ চন্দনবাটার মত ঝকঝকে কবিতা। আমার পা টলছে অসম্ভব রকম। মনে পড়ছে, আমার ফোনটা বেশীদিন হয়নি এখনও। সেটা ফেলে আসতে...

অন্ধকার এবং

Image
অবশেষে গোধূলি মুর্ছা যায় ঈষত্‍ পূর্বে। গবাদিরা ফিরে যায় পরিচিত জাবনার দিকে। সন্ধ্যার অস্থির শৃঙ্গার ছড়ায় পশ্চিমে; ভীমপলাশীর কাছে। খেজুর আর বাঁশবন ঢাকা পড়ে নিকষ চিকুরে। শখ ক'রে জুঁইফুল সাজে, দল বেঁধে মিথ্যুক জোনাকী। ঘরছাড়া কাবুলী যখন ঘুমিয়ে পড়ে জাফরানের ঝুলিতে মাথা রেখে, তখন রাত্রিই দু'হাতে খুলে দেয় কাঁচুলী। ক্লান্ত অমাবস্যা মুখ রাখে পূর্ণিমার উরোজে। নাভীতে, একলা ধ্রুবতারা প্রতিনিধি; ক্রন্দসীর। পৃথুল শ্রোণি থেকে নৈঋতে ওড়ে, জং ধরা একাকিনী উলুক। গ্রহদোষে নদীরা ভিটেছাড়া। অথচ পরিপাটি আদরে জড়িয়ে ধরে নিশীথের কোমর। তারিখের বাতায়নে, চোখ খোলে রক্তিম পঙ্কজ। তারই কোলের ওমে, মৌলোভী এখন মৃত। বিবস্ত্র তমসার যোনী লাজুক, রৌদ্রের সংস্রবে। কুয়াশায় আশাবাদী আশাহত নাঙ্গল। ক্ষুধাশৃঙ্খলে আহুতিলাভ অসতর্ক মুষিকের। শিকারাভিযানে উচ্ছসিত, মাছরাঙার সাতরঙা পাখা। হে বন্ধুবর, চেয়ে দেখো, চেয়ে দেখো। চেয়ে দেখো, পুরাতনের নিভুনিভু চিতা। সেই বভ্রু অঙ্গারেই উনুন ধরছে গৃহস্থের। পড়শিরা ছড়িয়ে দিচ্ছে কুলকুচি করা আতর আর নেভা আগুনের ধোঁয়ায় ঢেকে যাচ্ছে সমগ্র পথঘাট। ...

ডিউটি

Image
রোজ বাঁশের ডগায় ফিঙেপাখি বসে। দোল খায় আর দুপুরচেরা সুর ধরে। তারপর, হিহি করে হাওয়া দেয়। ঘাটে-ঘাটে মিহি ঢেউ ওঠে। বুড়ো সন্ধ্যেতারা গোধূলি আগলে বসে থাকে। সন্ধ্যে হলে সইসাবুদ করে বসে থাকে তালগাছের আড়ালে। তারপর সারারাত জেগে, ঢুলুঢুলু লালচোখে, ভোরের ডিউটির পর..   ছুটি। রোজের মতই রোজ কেটে যায়। কথা দুলুনি সইসাবুদ ঢেউ‌ হিহি হাওয়া আর আটপৌরে দুপুরচেরা সুর।

দুই পৃথিবী

Image
প্রায় বছর দশেক আগে ডোভার লেন সঙ্গীত সম্মেলনে ইংরেজিতে প্রথম বর্ষের ছাত্র সৃজনের সাথে আলাপ হয় পদার্থবিজ্ঞানে দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী নন্দিতার। আলাপ ছাপিয়ে বন্ধুত্ব, বন্ধুত্ব ছাপিয়ে নিজেদের অজান্তেই প্রেম। ক‍্যালেন্ডারের পাতার সাথে ঘুরতে থাকে বছর, বয়স। কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়। তার কয়েক বছর পর, পিএইচডি করতে নন্দিতা পাড়ি দেয় মুম্বাই। কর্মব্যস্ততা বাধ সাধতে পারেনি প্রেমে। রাজ‍্যের মানচিত্র, ঘড়ি, আবহাওয়া সব কিছু ছাপিয়ে দিনের অল্প হলেও সময় ছুঁয়ে যেত একে অপরকে। চুপ থেকেও বোঝানো যেত গভীর থেকে গভীরতর কথা। শুধু দীর্ঘশ্বাসেই ধরা দিত রকমারি অনুজ্ঞা। প্রায় চার বছর পর কলকাতা ফিরে পায় দুজনকে। বছর ঘুরতেই অধ‍্যাপনার সুযোগ আসে দুজনেরই। কলেজে পড়ানো দিয়ে শুরু হয় নতুন জীবন, ব‍্যস্ততা। আর ব‍্যস্ততার অজুহাতে অল্প অল্প করে দূরত্ব বাড়তে শুরু করে। অকাজের কথাতেও রাত কাটানো যায় এমন মানুষের সাথেই হয়ত সংসার করা উচিৎ। তবে কোনো কারণে দেখা করার আকাঙ্ক্ষাগুলো কমতে থাকে আর বাড়তে থাকে দেখা না করার অজুহাত। কাজের চাপ বরাবরই সুন্দর অকাট্য অজুহাত হয়ে দেওয়াল তুলতে থাকে দুজনের মাঝে। নির্ভেজাল প্রেম বছর ক...

রাত্রি হলে তবে

Image
পুরোনো একটা গলিতে, পরপর বাড়ি গুলো নিজেদের মত করে একে অন্যের কাঁধ ধরাধরি করে দাঁড়িয়ে থাকে। যাদের শরীর জুড়ে ব্রিগেড চলার আহ্বান থেকে ধর্মঘট সফল করার রংচটা দেওয়াল লিখন। কোথাও ঝুলতে থাকে কম্পিউটার সেন্টার, কোথাও বা একঘন্টায় গ্যারান্টিসহ বশীকরণের বিজ্ঞাপন, যারা হাওয়ায় দুলতে দুলতে অপলক দৃষ্টিতে চেয়ে থাকে শহরের দিকে, বাড়ি গুলোর দিকে। যে বাড়ি গুলো কোলে নিয়ে থাকে ততোধিক রংচটা কয়েকটা মানুষকে। রাজনৈতিক রংবেরঙের পতাকা ওড়ে অল্প হাওয়ায়।তারা হয়তো কিছু বলতে চায় অস্ফুটে। ওদের শরীরজুড়ে লেপ্টে থেকে ঝোলে বহু বহু বছর আগের অকেজো টেলিফোনের তার, যার মধ্যে দিয়েই প্রেরিত হত টেলিফোন বুথ থেকে চাপা গলায় 'চারটেয় ভিক্টোরিয়ার সামনে' বা 'পারলে ভুলে যাস' বা অন্য কিছু। ওদের শরীর ঘেঁসে দাঁড়িয়ে থাকে লিকলিকে লম্বা ল্যাম্পপোস্ট। যারা আলো ছড়ায় গলিঘুঁজি থেকে শুনশান বড় রাস্তায়। রাত গভীর হয়। চুপি চুপি এক হাতে ফোন নিয়ে, প্রায় নিঃশব্দে অন্য হাতেই ছাদের দরজার শিকল খুলে যায়। কোনো রকমে আধখানা রিং বাজতেই ওপ্রান্ত থেকে হুম-কার আসে। লাল আকাশের তলায় চাপা গলায় টপিক আকাশ পাতাল ওঠা নামা করে। মান অভিমানের ফোয়ারা ছুটে...

টাইম ম্যানেজমেন্ট

Image
কিছু কিছু ফোন নম্বর, শত চেষ্টা করেও মন থেকে ডিলিট করা যায় না কোনোদিনই। সেরকমই একটা নম্বর যখন নীলাঞ্জনের ফোনে জ্বলে উঠে ওর ধুকপুকুনিটা হঠাৎ বাড়িয়ে দিল, ইডেন হসপিটালের বারান্দায় তখন সবে টাটকা সন্ধ্যে। আট'বছর পর এই ফোনের কারণ ভাবতে ভাবতে ফোনটা কেটে গেল। কয়েক মুহুর্ত পরে আবার এল। সেই নম্বর। সাহস করে কানে ধরতেই, সেই চিরচেনা গলা ভেসে এলো। 'ডক্টর ঘোষ?' উত্তর দেওয়াটা সহজ হলেও উত্তরটা সহজ ছিল না। নীলাঞ্জন নির্বাক হয়ে রইল। ঢোঁক গিলে ধুকপুকুনি কমানোর চেষ্টা করতে লাগল। পাছে ওদিক থেকে শুনতে পাওয়া যায়। 'চিনতে পারছেন?' নীরবতা ভেঙ্গে আবার প্রশ্ন। অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে সে বলল, পারছি। 'কী করে!' 'গলা শুনে। ন্যাচারালি।' 'সেই.. ডক্টরের মেমোরী আফ্টার অল!' নীলাঞ্জন চুপ করে রইল। একটা হলুদ আলো বারান্দা দিয়ে গড়িয়ে ঠিক ওর পায়ের কাছে এসে থমকেছে। নীচে রোগীর পরিবারবর্গের ভীড়। সেদিকে তাকিয়ে সে বলল, চেনা চেনা তো অনেক কিছুই লাগে; চেনা যায় না তো শেষমেশ! 'উফ্.. এগেইন! লেটস্ কাম টু দ্যা পয়েন্ট' দ্রুততায় পেশাদারিত্বের ছাপ। নীলাঞ্জন জবাব ...